তাওবা-ইস্তিগফার কি?

 

তাওবা-ইস্তিগফার কি?

তাওবা-ইস্তিগফার কি?

ইস্তিগফারঃ

ইস্তিগফার শব্দের অর্থ, ক্ষমা চাওয়া। আর শরিয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ তা'আলার কাছে নিজের পাপ ও গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া এবং গুনারাশি মাফ পাওয়ার জন্য ক্ষমা চাওয়া।  


 রা-১১০ নাসর, আয়াত: ৩)

-------"আর আল্লাহ তা'আলা আজাব দেবেন না তাদের, আপনি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায়; আর আল্লাহ তাদের আজাব দেবেন না, যখন তারা ইস্তিগফার করে।"

-----(সুরা-৮ আনফাল, আয়াত: ৩৩)

 তাওবাঃ

তাওবা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, ফিরে আসা। অর্থাৎ- মানুষ যখন ভুল পথে বা পাপের পথে বা কোন গুনাহের পথে যায় বা বিপথগামী হয়, তখন সেখান থেকে সঠিক পথে বা ভালো পথে বা মহান আল্লাহর পথে ফিরে আসাকে তাওবা বলা হয়। আর তাওবার পারিভাষিক অর্থ হলো, লজ্জিত হওয়া। অর্থাৎ-স্বীয় কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে সঠিক পথে ফিরে আসা! 

তাওবার জন্য করণীয় হলো, স্বীয় কৃতকর্মের প্রতি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া, সেই অপরাধ আর না করার দৃঢ় প্রত্যয় ও সংকল্প গ্রহণ করা এবং তা থেকে নিজেকে দূরে রাখা বা বিরত রাখা এবং নেক আমলের প্রতি অতি বেশিমাত্রায় মনোযোগী হওয়া।

 ️তাওবা সম্পর্কে পবিত্র আল-কুরআনে মহান আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমানঃ

 -------"হে ইমানদারেরা! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো, আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের এমন জান্নাতসমূহে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে ঝরনাসমূহ প্রবহমান।"

-----(সুরা-৬৬ তাহরিম, আয়াত: ৮)

-------"নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা তওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।"

-----(সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২২২)

 সুতরাং তাওবা-ইস্তিগফার শব্দ দু’টির অর্থ প্রায়ই কাছাকাছি! এর একটি বিষয় হচ্ছে, কৃত সকল পাপ 

বা গুনাহের কাজের জন্য মহান আল্লাহ পাক এর কাছে লজ্জিত হওয়া এবং তার থেকে ফিরে আসা এবং ঐ পাপ থেকে দূরে থাকা এবং তার থেকে নিজেকে বিরত রাখা। আর অন্যটি হচ্ছে, নিজের কৃত পাপ বা গুনাহ মাফের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দু'আ করা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আ'লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ

-------"হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর দিকে ফিরে আসো, নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ১০০ বার তওবা করি।"

-----(মুসলিম)


Comments

Popular posts from this blog

কেয়ামতের আলামত, মানুষ লাঠি ও জুতার ফিতার সাথে কথা বলবে

কিয়ামতের আলামত ও বর্তমান বিশ্বের কিছু আলামত

বাংলাদেশে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস