Posts

হিদায়াত যেভাবে হারিয়ে যায়

  এমন অনেক ভাই বোন আছেন আমাদের আশেপাশে যারা একটা সময় দ্বীনে ফিরেছিলেন। নামাজ, রোযা, জুব্বা, পাগড়ি, পর্দা, লিবাস, তাহাজ্জুদ, আমল, আখলাক, লেনদেন সব মিলিয়ে মিলিয়ে তারা যেনো ছিলেন একেকজন দ্বীনের পথে অনুপ্রেরণার বাতিঘর। তাদেরকে দেখে, তাদের দাওয়ায় মুগ্ধ হয়ে অনেকেই দ্বীনে ফিরেছে, আল্লাহ কে চিনেছে, জীবনকে আখিরাতমুখী করেছে।  কিন্তু, অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হলো, সময়ের পরিক্রমায় তারা নিজেরাই আজ হারিয়ে গেছে, তাদের সেই অশ্রুভেজা দীর্ঘ নামাজ নেই, নেই আইয়ামে বীজের সিয়ামের খবর, তাহাজ্জুদ তো দূর কী বাত, ফরজ নামাজেও খুব একটা আজকাল দেখা যায় না, হয়তোবা অফিসে বা বাসায় একাকি আদায় করেন, কথাবার্তায় সেই নূর নেই, নেই সেই আখিরাতের ফিকির, উম্মতের প্রতি, আশেপাশের প্রতিটা মানুষের আখিরাতের চিন্তায় বিভোর হয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগার সেই দিনগুলো, নেই দাওয়াহ এর সেই স্পৃহা, আর না আছে আল্লাহর ভালোবাসা, তার দ্বীন নিয়ে তেমন কোন আলোচনা৷  কারো কারো বাহ্যিক লেবাস টাও থাকেনা, হুট করে দেখা যায় দাড়িগুলো ছোট হয়ে গেছে, জুব্বা পাঞ্জাবী এখন শার্ট প্যান্টে প্রতিস্থাপিত হয়েছে, ব্যাংক জব বা এমন কোন জবে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে যেখানে হাল...

যে নারীর আশেপাশের প্রায় সবাই জান্নাতী!

Image
ইতিহাসে এমন একজন নারী আছেন, যিনি নিজে জান্নাতী, যার বাবা জান্নাতী, যার মা জান্নাতী, যার স্বামী জান্নাতী, যার সন্তান জান্নাতী, যার দুলাভাই জান্নাতী। তিনি হলেন ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। ইতিহাসে এমন নারী এক এবং অদ্বিতীয়। ফাতিমা (রা:) নিজে জান্নাতী। তাঁর বাবা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জান্নাতী। তাঁর মা খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) জান্নাতী। তাঁর স্বামী আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতী। তাঁর পুত্রদ্বয় হাসান-হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) জান্নাতী। তাঁর বোনের জামাই উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জান্নাতী।

আবু ত্বোহা আদনানের ব্যাপারে যত জানছি, তত অবাক হচ্ছি। অসাধারণ প্রতিভাবান ভালো মানুষ তিনি।

Image
  ১) তিনি রংপুরে এতো ভালো ক্রিকেট খেলতেন যে, অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় ক্রিকেট টিমে সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু ইসলামের স্বার্থে ২) তিনি তাঁর জাহেলিয়াতের জীবনে একবার গিটার বাজানো শিখতে চেয়েছিলেন। মাত্র কয়েকদিনের প্র্যাকটিসে ভালো গিটার বাজাতে পারতেন। (একজনের সাক্ষ্য) ৩) তাঁর স্ত্রী সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি গুনাহকে অত্যন্ত ভয় করতেন। গুনাহ থেকে দূরে থাকতেন। বাসায় তিনি দু‘আ, পড়ালেখা ও দ্বিনি কথা বলে সময় কাটাতেন। প্রচুর পরিমাণে দু‘আ করতেন তিনি। এছাড়াও তাঁর স্ত্রী যেভাবে লাইভে এসে তাঁর প্রশংসা করেছেন, তাতে আবু ত্বোহা আদনানকে অনেক আলিমকে (পজিটিভলি) ঈর্ষা করতে দেখছি। কারণ, হাদিসে এসেছে, সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। ৪) তাঁর এক ছাত্রী সাক্ষ্য দিয়েছেন, তিনি কোনোদিন তার দিকে চোখ তুলে তাকাননি। . ৫) ফলাফল এই যে, ড্যান্সার মেয়েরাও তাঁর আলোচনায় প্রভাবিত হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ। . ৬) অনেকে নেশা ছেড়ে দিচ্ছে। . ৭) তিনি জেনারেল থেকে ওঠে আসা মানুষ। এখন মাদ্রাসায় পড়ছেন, আলিমদের সান্নিধ্যে থাকছেন। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত পড়াশুনা তাঁকে আজ এই অবস্থায় এনেছে। . হাদিসে এসেছে, ‘তোমাদের মাঝে যারা জাহেলি যুগে শ্র...

জান্নাত পাওয়ার সহজ আমল, নিজে আমল করুন,সন্তানদের শিক্ষা দিন

Image
জান্নাত পাওয়ার সহজ ৬ টি আমল!নিয়মিত নিজে আমল করুন, সন্তানদের শিক্ষা দিন ১. প্রতিবার ওযূর পর "কালিমা শাহাদাত" পড়া। এতে জান্নাতের ৮ টি দরজার যে কোনোটি দিয়ে আমলকারীকে প্রবেশ করতে বলা হবে। ____(নাসাঈ-১৪৮, তিরমিযী-৫৫, ইবনু মাজাহ-৪৭০) উচ্চারণ : আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারীকালাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু। ২. প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় একবার করে "সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার " পড়া। সকালে পড়ে সন্ধ্যার আগে মারা গেলে অথবা সন্ধ্যায় পড়ে রাতের মধ্যে মারা গেলে সে জান্নাতি হিসাবে গণ্য হবে। ____(বুখারী-৬৩০৬, তিরমিযী-৩৩৯৩, মিশকাত-২৩৩৫) উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ'বদুকা ওয়া আনা আ'লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ'উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি'মাতিকা আ'লাইয়্যা ওয়া আবূউলাকা বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা। ৩. প্রতিবার ফরয সালাতের পর একবার "আয়াতুল কুরসি" পড়া। নিয়মিত আমল করলে আমলকারী ও জান্নাতের মধ্যে পার্থক্য থাকে শুধুমাত্র মৃ...

আসুন ছোট ছোট শিরক সম্পর্কে জানি ও এগুলো থেকে বিরত থাকি

Image
শিরক অনেক ভয়াবহ ও মরাত্মক অপরাধ। কুরআনুল কারিমে ঘোষণায় শিরক করাকে সবচেয়ে বড় জুলুম বলা হয়েছে। হাদিসে পাকে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিরক থেকে বেঁচে থাকতে উম্মতের প্রতি নসিহত করেছেন। আবার শিরক থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে বলেছেন।  রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিরক থেকে বেঁচে থাকার জন্য যেমন দোয়া করতে বলেছেন তেমনি শিরকের গোনাহ থেকে মুক্তির দোয়াও শিখিয়েছেন। ইমাম বুখারি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি আদাবুল মুফরাদে তা তুলে ধরেছেন- اللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لاَ أَعْلَمُ উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আলামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আলামু। (আদাবুল মুফরাদ, মুসনাদে আহমাদ) অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি মনের অজান্তে আপনার সাথে শিরক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং মনের অজান্তে যদি (শিরক) হয়ে যায়, তার থেকে আপনার কাছে ক্ষমা চাই।’ শরিরে যে কোন প্রকার তাবিজ ঝুলানো শিরক। __(মুসনাদে আহমদ: ১৭৪৫৮, সহিহ হাদিস:৪৯২) আল্লাহ্ ব্যাতিত অন্য কারো নামে কসম করা শিরক। _...

ভারতে রিট জারী করা আয়াত গুলোর লিস্ট

Image
ভালোই হয়েছে সবাই একসাথে জিহাদের আয়াত গুলো  পড়তে পারবে। আল্লাহ চাহেতো মুসলমানদের অন্তরে আবার জিহাদী প্রেরণা জোগাতে পারে।  নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাআলার কোরআনের কোন আয়াতে কোনো ত্রুটি নাই, তাফসীর না জানলে আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝা সম্ভব নয় আশা করি উলামায়ে কেরাম এই আয়াতগুলো পড়ে এর তাফসীর গুলো মানুষকে বুঝিয়ে দিবেন মানুষ যেন গাজওতুল হিন্দ এর জন্য প্রস্তুত থাকে তার জন্য আহবান করবেন।  নিশ্চয়ই কোরআন আল্লাহু সুবহানাতায়ালা অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি তাঁর সংরক্ষক। 🚩1. 8:12/সূরা আল-আনফাল/আয়াত নং ১২ اِذۡ یُوۡحِیۡ رَبُّکَ اِلَی الۡمَلٰٓئِکَۃِ اَنِّیۡ مَعَکُمۡ فَثَبِّتُوا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ سَاُلۡقِیۡ فِیۡ قُلُوۡبِ الَّذِیۡنَ کَفَرُوا الرُّعۡبَ فَاضۡرِبُوۡا فَوۡقَ الۡاَعۡنَاقِ وَ اضۡرِبُوۡا مِنۡہُمۡ کُلَّ بَنَانٍ ﴿ؕ۱۲﴾  অনুবাদঃ  স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তোমরা তাদেরকে অনড় রাখ’। অচিরেই আমি ভীতি ঢেলে দেব তাদের হৃদয়ে যারা কুফরী করেছে। অতএব তোমরা আঘাত কর ঘাড়ের উপরে এবং আঘাত কর তাদে...

ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি

Image
ওই ব্যক্তির কথা হইতে উত্তম কাহার কথা হইতে পারে যে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকে নিজে নেক আমল করে এবং বলে আমি মুসলমানদের মধ্য হইতে একজন মুসলমান। সূরা মীম সাজদাহ: ৩৩)  আল্লাহর পথে আহ্বান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ নবী-রাসূলদের কাজ। সুতরাং যারা এ পথে কাজ করবে তাদের কথা-বার্তা ও আচরণে নবী রাসূলদের আদর্শ প্রতিবিম্ব হতে হবে। কারণ তাঁরাই দুনিয়ার মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ অনুকরণীয় আদর্শ। আর তাদের আদর্শ হল, নম্রতা পূর্ণ কথা ও সুন্দর আচরণ। দাওয়াতি ময়দানে রুক্ষ ও কর্কশ ভাষা এবং উগ্র আচরণ কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।  নিম্নে কুরআন-সুন্নাহ ও মনিষীদের উক্তির আলোকে বিষয়টি সংক্ষেপে আলোচনা করা হল: ১. আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দাওয়াতের পদ্ধতি শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন: ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ “তোমার পালনকর্তার পথের প্রতি আহবান কর হিকমত (প্রজ্ঞা) ও উপদেশপূর্ণ কথার মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সুন্দরতম পন্থায়।” (সূরা নহল: ১২৫)  ইমাম বাগাবী বলেন: কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, ‘উপদেশপূর্ণ কথা’ হল, هو القول اللين الرقيق من غير غلظ...